কাস্টম অডিয়েন্স বিল্ড আপ করে অনলাইনে সহজেই সফল হওয়া সম্ভব

ক্যাটাগরী : ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং | সাব ক্যাটাগরী : অডিয়েন্স বিল্ড আপ
তারিখ: শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯


কাস্টম অডিয়েন্স বিল্ড আপ করে অনলাইনে সহজেই সফল হওয়া সম্ভব

অনলাইনে আপনি যত দক্ষই হোন না কেন যদি আপনার কাস্টম কোন অডিয়েন্স না থাকে তবে সফল হওয়া কস্টকর হয়ে যাবে। অনলাইনে আপনারা বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে দেখে থাকতে পারেন, খুবই সাধারন কিছু সার্ভিস প্রবাইড করে ফ্রিল্যান্সররা লাখ লাখ ডলার আয় করেছেন। এই বিশাল সেল যে খুব সহজেই হয়ে গেছে তা কিন্তু নয়। ১০ থেকে ৫০ লাখের একটি অডিয়েন্স যদি আপনার থাকে তবে সে অডিয়েন্সকে ব্যবহার করে আপনিও আয় করতে পারেন।

কাস্টম অডিয়েন্স হল - এমন একটি গ্রুপ বা প্লাটফরম তৈরি করা যেখানে আপনি আনলিমিটেড ভিজিটর বা রিডার বা শ্রুতা সহজে নিয়ে আসতে পারবেন আপনার মত বা বক্তব্য বা সেবা সার্ভিস সম্পর্কে জানাতে। এই অডিয়েন্সকে টার্গেট করে আপনি ছোট একটি সেবা বা সার্ভিস প্রবাইড করে জনপ্রিয় হয়েউঠতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, অডিয়েন্স আপনার টার্গেট সার্ভিসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। 

আপনি যদি ফুটবলের কোন প্রডাক্ট সেল করেন তবে যারা ফুটবল খেলে তাদের নিয়ে আপনার অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। আপনি যদি লেডিস প্রডাক্ট সেল করেন তবে সেরকম অডিয়েন্স টার্গেট করতে হবে। অনলাইনে অনেক প্লাটফরম রয়েছে যারা আপনাকে ভিজিটর প্রবাইড করবে যদি আপনি তাদের পে করেন কিংবা অন্যদের ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। ক্লিক ফর ক্লিক মেথডে যদি আমরা ভিজিটর নিয়ে আসি তবে সে অডিয়েন্সে কোন প্রডাক্ট সেল করা প্রায় অসম্ভব। 

যেভাবে কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করা সম্ভব - 

১। সোশিয়াল মিডিয়ায়।
২। ইমেল মার্কেটিং।
৩। ব্লগিং।

কাস্টম অডিয়েন্স তৈরি করার জন্য এই ৩টি পদ্ধতিই সর্বাধিক ব্যবহৃত হয়ে থাক। এগুলোর বাইরে আরো কিছু পদ্ধতিতে টার্গেট অডিয়েন্স বিল্ড করা সম্ভব। প্রত্যেকটি পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের "হক মালটিমিডিয়া" ওয়েবসাইটটি নিয়মিত দেখুন। ধারাবাহিকভাবে আমরা টপিকগুলো তুলে ধরব।

এই অডিয়েন্স দিয়ে কোন কোন পদ্ধতি অনলাইনে আয় করা সম্ভব - 

১। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।
২। সেলিং ট্যালেন্ট সার্ভিস।
৩। প্রবাইডিং ভিজিটর।
৪। এডভার্টাইজিং।
৫। ব্র্যা্ডিং

*** আপনার কাছে যদি ৫০ লাখ কোম্পানীর একটিব ইমেল ডাটাবেইস থাকে যাদের কোম্পানীর ওয়েবসাইট রয়েছে। তবে আপনি তাদের কাছে ওয়েব হোস্টিং সার্ভিসের ইমেল মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি নিজে যদি হোস্টিং প্রবাইডার হোন তবে আপনার হোস্টিং সেলস সার্ভিস থেকেই কয়েক হাজার ডলার আয় করতে পারেন প্রতি বছর। আবার আপনি যদি নিজে হোস্টিং প্রবাইডার না হোন তবে অন্য কোম্পানীর হোস্টিং সেল করতে পারেন। অনেক কোম্পানী আছে যারা ১০-৫০% পর্যন্ত তাদের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের দিয়ে থাকে। তাছাড়া আমাজন, ইবে ইত্যাদি প্লাটফরমের প্রডাক্টও আপনি সেল করতে পারেন। মনে রাখতে হবে , আপনার কাছে যে ক্যাটাগরীর ডাটাবেইস আছে সেই ক্যাটাগরীর প্রডাক্ট সেল করার জন্য মার্কেটিং করতে হবে। 

*** আপনার যদি কোন ফেইসবুক পেইজ বা গ্রুপ থাকে যেখানে কয়েক লাখ একটিব মেমবার রয়েছে। তবে তাদের কাছেও আপনি আপনার সার্ভিস সেল করতে পারেন। টুইটার, হোয়াটস অ্যাপ সহ প্রতিটি সোশিয়াল সাইটেই নিজস্ব একটি অডিয়েন্স তৈরি করার সুযোগ থাকে। আপনি যে ধরনের প্রডাক্ট সেল করবেন সেই নিশে আগ্রহ রয়েছে এমন সব সাধারণ মানুষকে নিয়ে আপনার অডিয়েন্স তৈরি করতে হবে। আপনার অডিয়েন্স আর সার্ভিস যদি একই না হয় তবে সফল হওয়া সম্ভব নয়। ধর্মীয় কোন অনুষ্ঠানে যেমন রক গান বাজালে সে অনুষ্ঠানে কেউ আসবে না তেমনী রক গানের কোন অনুষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন সম্ভব নয়। তাই আপনি যখন অডিয়েন্স বিল্ড করবেন তখন খুবই সর্তক থাকতে হবে।

*** আমি মনে করি ব্লগিং হচ্ছে টার্গেট অডিয়েন্স নিয়ে আসার সব থেকে ভাল উপায়। আমার পরিচিত একজন একটি ব্লগ সাইট তৈরি করালেন আমার মাধ্যমে যেখানে তিনি ইউটোব থেকে ভিডিও শেয়ার করতেন। কন্টেন্ট বলতে শুধু ইউটোবের ভিডিও ব্যবহার করলেন। আলাদা কোন কন্টেন্ট তিনি ব্যবহার না করায় আমি ধারনা করলাম উনি কিছু দিনের মধ্যেই এই সেক্টর ছেড়ে চলে যাবেন। উনার ওয়েবসাইটে শুধু হেলথ সমস্যা নিয়ে যত ধরনের ভিডিও ইউটোবে আছে সব তিনি টাইটেল ড্রেসক্রিপশন একটু চেঞ্জ করে পোস্ট করতেন। ধীরে ধীরে কিছু কিওয়ার্ডে উনার ওয়েবসাইট গুগলে রেংক হতে শুরু করে। ২ বছর পর উনি কিছু হেলথ প্রডাক্টের অ্যাফিলিয়েট শুরু করেন এবং সেল পেতে শুরু করেন। সেদিন থেকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের উপর আমার ধারনাই পাল্টে গেল। আসলে লেগে থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। তবে সব সময় এই পদ্ধতি কাজে আসবে তাও বলা সম্ভব নয়। ব্লগিং করার ক্ষেত্রে ইউনিক কন্টেন্ট থাকা বাধ্যতামূলক। আপনি যে প্রডাক্ট সেল করতে চান সে টপিকের উপর ব্লগিং শুরু করুন। সাধারন মানুষ কোন সমস্যায় পড়লে আপনি সেসব সমস্যার সমাধান দিন ব্লগের মাধ্যমে। আপনার যখন আলাদা একটি পরিচয় সৃষ্টি হবে তখন দেখবেন যেকোন ছোট সার্ভিস দিয়েই আপনি অনেক বেশী আয় করতে পারছেন।


লেখক, ওবায়দুল হক
ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলাপর
মোবাইল: ০১৭১৮-০২৩৭৫৯

তথ্য সার্চ করুন
সর্বাধিক প্রিয় পোস্ট
মোবাইলে যোগাযোগ
    ওবায়দুল হক, ০১৭১৮-০২৩৭৫৯ (সকাল ১০টা - রাত ১০টা)
কমেন্ট করে মতামত জানান: